প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী, ২০২৬

ভেনেজুয়েলা শুক্রবার জানায়, রাজধানীতে মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। বামপন্থী নেতাকে আটক করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশের ‘দায়িত্বে’ আছেন বলে দাবি করার পর সহযোগিতার এটিই সর্বশেষ ইঙ্গিত।
দীর্ঘ কয়েক বছরের কূটনৈতিক বিচ্ছেদ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক উত্তেজনার পর একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা। গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘকালীন শাসক নিকোলাস মাদুরোর নাটকীয় প্রস্থান এবং দেশটিতে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের উত্থানের পর উভয় দেশই কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে। এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১৯ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর এক অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার শাসনক্ষমতায় রদবদল ঘটে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা ডেলসি রদ্রিগেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের সাথে ‘যৌক্তিক ও মর্যাদাপূর্ণ’ সংলাপের আহ্বান জানানো হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
কর্মকর্তারা বলেন, দেশটির দূতাবাস পুনরায় চালু করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে মার্কিন দূতরা কারাকাসে অবস্থান করছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল এক বিবৃতিতে বলেন, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকার ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে একটি অনুসন্ধানমূলক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার লক্ষ্য উভয় দেশে কূটনৈতিক মিশন পুনঃস্থাপন’।
এক বিবৃতিতে রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুতর, অপরাধমূলক, অবৈধ ও অবৈধ-স্বীকৃত’ হামলার নিন্দা জানান এবং বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা কূটনৈতিক পথেই এই আগ্রাসনের মোকাবেলা চালিয়ে যাবে।’